প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে
আসা প্রকাণ্ড এক গ্রহাণুর সন্ধান পেয়েছে নাসার বিজ্ঞানীরা। তবে সেটা এখনকার কথা
নয়, আজ থেকে আরও ২২ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে। আর তখনই বিজ্ঞানীরা ধারনা করেছিল,
এটি ২০২০ সাল নাগাদ পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রবল। এই গ্রহাণুটির আকার ৪.১
কিলোমিটার অর্থাৎ Mount
Everest এর প্রায় অর্ধেক সমান বড়। বিশাল আকারের এই গ্রহাণুটি যদি পৃথিবীতে আঘাত হানে তাহলে মানবসভ্যতার
ধ্বংস অনিবার্য। বলতে পারেন, একটা বড় হুমকি পুরো মানবজাতির জন্য।
বিজ্ঞানীদের ধারনা একেবারে
মিথ্যা নয়।
গ্রহাণুটির নাম দেয়া হয়েছিল
52768 1998 OR2। গ্রহাণুটি প্রতি সেকেন্ডে ৮.৭ কিলোমিটার অর্থাৎ ঘণ্টায় ৩১ হাজার
৩২০ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। এই গতিতে আসতে থাকলে চলতি
বছরের এপ্রিলেই পৃথিবীর সংস্পর্শে আসবে বিশাল আকৃতির এই পাথরখণ্ডটি।
এই Asteroid বা গ্রহাণুগুলো হলো মূলত মহাজাগতিক পাথর। এই গ্রহাণুগুলো বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে। অধিকাংশ গ্রহাণুই “মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত Asteroid Belt অবস্থান করে এবং নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে আবর্তন করে।
যদিও, প্রতি ১০০ বছরে ৫০ হাজার
বারের মধ্যে মাত্র একবার মানবসভ্যতা ধ্বংস করার মতো ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রহাণু
পৃথিবীতে আঘাত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিনিয়ত অসংখ্য গ্রহাণু
আমাদের পৃথিবীর পাশ ঘেঁষে চলে যাচ্ছে। এছাড়াও কয়েক মিটার সাইজের হাজার হাজার পাথরখণ্ড প্রতিনিয়ত পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে মদ্ধ্যাকরশন
বলের প্রভাবে। কিন্তু সেগুলো আকারে ছোট হওয়ার কারনে, বাতাসের সংস্পর্শে আসার সাথে
সাথেই প্রচণ্ড ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। যেগুলোকে আমরা ঊল্কা বলি। যার ফলে
পৃথিবীতে কোন প্রভাব পড়ে না। তবে আকারে বড় হলে সেগুলো পুড়ে ছাই হওয়ার আগেই
পৃথিবীতে প্রবল বেগে আঘাত করে। যেমনটি ঘটেছিল ২০১৩ সালে রাশিয়ার একটি শহরে।
প্রায় ২০ মিটার সাইজের একটি পাথরখন্ড আছড়ে পরেছিল শহরটিতে, তৈরি হয়েছিল প্রচন্ড শকওয়েভ, যাতে জানালার কাঁচ টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়েছিল। এছাড়াও ১৯০৮ সালে সাইবেরিয়ায় আঘাত করেছিল প্রায় ৪০ মিটার আকৃতির একটি গ্রহাণু।
প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে ১০ কিলোমিটার আকারের একটি গ্রহাণুর আঘাতেই পৃথিবী থেকে ডায়নোসর বিলুপ্ত হয়েছিল। ডায়নোসরের উতপত্তি ও বিলুপ্তির ইতিহাস জানতে আমাদের এই ভিডিওটি দেখুন।
মূলত ১ কিলোমিটারের কাছাকাছি
বা এর চেয়ে বড় পাথরখন্ড পৃথিবী ধংসের কারন হতে পারে। এগুলো ভূমিকম্প, সুনামি এমনকি
প্রকাণ্ড বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। এই গ্রহাণুটি ২৯শে এপ্রিল ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে পৃথিবীর পাশ ঘেঁষে
চলে যাবে। যার দূরত্ব হবে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ৬.৩ মিলিয়ন কিলোমিটার। সেই সময়
আপনি এটা খালি চোখেই দেখতে পাবেন। চিন্তা একটু কমলো তাই না?
না, রিস্ক থেকেই যায়। Yarkovsky Effect এবং Gravitational Keyhole এর কারণে পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সংক্ষেপে Yarkovsky Effect হলো এমন একটি প্রভাব যেটি মহাকশে ঘূর্ণনরত কোন একটি বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করে। এই প্রভাবটি সাধারণত Meteroids বা ছোট Asteroids এর উপর ঘটে থাকে। আর Gravitational Keyhole হল, প্রতিটি মহাজাগতিক বস্তু যখন কোনো গ্রহের বা নক্ষত্রের পাশ ঘেঁষে যায় তখন সেই মহাজাগতিক বস্তুটি ঐ গ্রহের বা নক্ষত্রের Gravitational Energy দ্বারা Gravitational Pool অনুভব করে। যার ফলে ঐ মহাজাগতিক বস্তুটির Trajectory Disturbance হয়। অর্থাৎ ঐ মহাজাগতিক বস্তুটির পথ পরিবর্তিত হয়। যদি কোনো গ্রহের সামনে দিয়ে কিংবা কোনো গ্রহের কক্ষপথ ঘেঁষে কোনো Spatial Body যেমন কোনো গ্রহাণু যায় তবে সেই গ্রহ তা নিজের দিকে টানে।
যদি আমাদের পৃথিবীর সাথে
গ্রহাণুটির সংঘর্ষ হয়, তবে তা পৃথিবীর টেকটনিক প্লেটকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে যার
নাটকীয় প্রভাব পড়বে পৃথিবীর উপর। এর ফলে পৃথিবীর আবহাওয়া এবং বায়ুমণ্ডলীয়
অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। আর এটি ঘটলে পৃথিবীর আবহাওয়ার অর্থাৎ পুরো বায়ুমণ্ডলীয়
সিস্টেমের মারাত্মক ক্ষতিসাধন ঘটবে।
তবে আমি আশা করছি এটি অন্যান্ন গ্রহাণুর মত পৃথিবীর পাশ ঘেঁসে বেরিয়ে যাবে। এবং আমি ঐদিন সেই মহাজাগতিক দানবীয় বস্তুটিকে খালি চোখে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনি নিচ্ছেন কি? কমেন্ট করে জানান। আর আমাদের লেখাটি ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক ও শেয়ার করুন।
ধন্যবাদ।

