এমন এক ব্যাটারি, যা দেখতে একেবারে কয়েনের মত, আর যার চার্জ শেষ হবে না ৫০ বছর পর্যন্ত—একবারও চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
চীনের সর্বশেষ পারমাণবিক অগ্রগতি ভবিষ্যৎকে শক্তি জোগাতে পারে—নিঃশব্দে, অন্তহীনভাবে এবং একটিও তার ছাড়াই।
এবং এটাই কেবল শুরু।
বেইজিং-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বেটাভোল্ট তৈরি করেছে এই ক্ষুদ্র শক্তিশালী ব্যাটারি। একইসাথে নর্থওয়েস্ট নরমাল ইউনিভার্সিটি পরিচালিত আরেকটি আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প আমাদের এমন এক যুগের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যেখানে শক্তি কয়েক দিন বা মাস নয়, টিকে থাকবে ৫০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত।
এই ব্যাটারিগুলোকে বলা হয় বেটাভোল্টাইক ব্যাটারি বা নিউক্লিয়ার ব্যাটারি। এগুলো বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে রেডিওঅ্যাকটিভ ক্ষয়—বিশেষ করে বিটা ক্ষয়—থেকে মুক্ত হওয়া শক্তিকে বিদ্যুৎ প্রবাহে রূপান্তর করে।
পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের মতো এখানে কোনো চেইন রিঅ্যাকশন, তাপ বা যান্ত্রিক অংশ নেই।
বরং এগুলো নির্ভর করে নিকেল-৬৩ বা কার্বন-১৪ এর মতো আইসোটোপের উপর, যেগুলো ধীরে ধীরে কয়েক দশক ধরে ইলেক্ট্রন নিঃসরণ করে। সেই ইলেক্ট্রনগুলো সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ দ্বারা সংগ্রহ করা হয় এবং তৈরি করে স্থির বিদ্যুৎ প্রবাহ—ওয়াট খুবই ক্ষুদ্র, কিন্তু স্থায়িত্ব বিশাল।
এই প্রযুক্তির ধারণা ১৯৫০-এর দশক থেকেই ছিল, তবে চীনের নতুন প্রোটোটাইপই প্রথম, যেটি নিরাপদ ও আধুনিক উপাদান ব্যবহার করে ব্যাটারিকে বাটন সেল থেকেও ছোট আকারে নামিয়ে এনেছে।
ভাবুন তো—একটি হার্ট মনিটরের ব্যাটারি আর কোনোদিন বদলাতে হবে না।
মহাকাশযান কয়েন আকারের সেল দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভ্রমণ করবে।
ডেটা সেন্টার, সেন্সর আর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতাব্দী ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে, কোনো শব্দ ছাড়াই।
নিউক্লিয়ার ব্যাটারির বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে—এবারের ব্যাটারি আরও ছোট, নিরাপদ, আর আগের যেকোনো কিছুর চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী।

