*** ভিডিওটি ইউটিউবে দেখতে এই পোষ্টের নিচে যান ***
একটি অব্যর্থ ও নির্ভুল নিশানা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে ইসরাইলি মিসাইল এসে আছড়ে পড়লো ইরানের ইস্পাহান শহরের একটি ভবনে। এবং মুহূর্তেই ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের পরমানু বিজ্ঞানী, আইআরজিসি ইন্টেলিজেন্স সহ দুই জন আর্মি জেনারেল নিহত হলেন। কিন্তু এতো গোপন খবর আর নির্ভুল অবস্থান কিভাবে জানলো ইসরায়েল? আর কেনই বা সেই মুহূর্তে অকেজো ছিল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?
তাহলে কি শত্রু নিজের ঘরেই?
এই গল্পটি কোনো থ্রিলার উপন্যাস নয়। এটা বাস্তব, ভয়ংকর, আর এতটাই নিখুঁত যে, কল্পনাকেও হার মানায়। এই হত্যাকাণ্ড কাহিনির নায়িকা একজন নারী— যিনি কোমল মুখে হাসতেন, আলতো করে কথা বলতেন, আর সেই কথার ছায়ায় ডুবে গেল একটা দেশের নিরাপত্তা।
নাম ক্যাথরিন পেরেজ শকদাম। একজন ফরাসি নাগরিক, যিনি ইসলাম গ্রহণ করে নিজেকে শিয়াপন্থী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি ‘বিলায়তে ফকিহ’ মতবাদের সমর্থনে লেখালেখি করতেন, এমনকি তাঁর লেখা প্রকাশ পেত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। একজন ধর্মনিষ্ঠ নারী লেখিকা হিসেবে তিনি কুড়িয়েছিলেন ইরানের অভ্যন্তরে অগাধ শ্রদ্ধা ও গ্রহণযোগ্যতা। কিন্তু এই মুখোশের পেছনে ছিল এমন এক সত্তা, যার পর্দা খুলতেই কেঁপে ওঠে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র।
ক্যাথরিন ইরানে এসেছিলেন সাংবাদিক, লেখক এবং চিন্তাবিদের পরিচয়ে। তিনি ছিলেন শিক্ষিত, মার্জিত ও চমৎকার বক্তা। রাজনীতিবিদদের সঙ্গে একাধিক আলোচনা সভায় অংশ নেন, রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে ক্লোজ ডোর মিটিংয়ে বসেন। এমনকি ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রইসির সঙ্গেও তার বৈঠক হয়।
‘গবেষণার কাজ’ এর অজুহাতে তিনি পা রাখেন এমন সব সংবেদনশীল এলাকায়, যেখানে একজন বিদেশির প্রবেশ তো দূরের কথা— দেশীয় নাগরিকদেরও অনুমতি মেলে না সহজে।
কিন্তু আসল অভিযান শুরু হয়েছিল পর্দার আড়ালে—ঘরের ভেতর থেকে।
ক্যাথরিন বুঝেছিলেন, ইরানের পুরুষ শাসিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ভাঙতে গেলে প্রবেশ করতে হবে সেই জায়গায়—যা সবচেয়ে দুর্বল, কিন্তু সবচেয়ে অরক্ষিত— নারীমহল। তিনি শুরু করেন এক অদৃশ্য অভিযান, উচ্চপদস্থ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। তাদের সঙ্গে করেন নিখুঁত বিশ্বাসের সম্পর্ক। আলাপে আড্ডায় শুনে ফেলেন সব— স্বামী কোথায় যায়, কখন মিটিং থাকে, কোথায় অবস্থান করছেন, কি ধরনের দেহরক্ষী থাকে, এমনকি তারা কি পোশাক পরতে পছন্দ করেন।
এইসব ছোট ছোট তথ্যগুলোই মোসাদের জন্য হয়ে দাঁড়ায় একটি হত্যা মিশনের ব্লুপ্রিন্ট। নারীদের বলা কথাগুলো কখনোই সন্দেহজনক ছিল না, তারা ভেবেছিলেন—একজন বিশ্বাসভাজন বান্ধবীকে বলছেন। কিন্তু সেই কথাগুলো রেকর্ড হতো। পাঠানো হতো ইসরায়েলের গোয়েন্দা ইউনিটে। সেখান থেকেই নির্ধারণ করা হতো— পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্যবস্তু।
একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড—ঠিক যেন ছায়ার ভেতর থেকে ছোঁড়া গুলি।
ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সামরিক কৌশলবিদ— অনেকেই একে একে খুন হতে থাকেন। হত্যাগুলো এতটাই নিখুঁত আর নিঃশব্দ ছিল, যেন কেউ জানতেই পারছিল না—শত্রু আসলে দরজার ভেতরেই ছিল! এবং ঠিক তখনই… যখন ইরান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো টের পেতে শুরু করলো কিছু একটা ঠিকঠাক নয়, তখনই ক্যাথরিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। খুব নিখুঁত সময়ে, যখন দরজাগুলো বন্ধ হতে যাচ্ছিল, তিনি বেরিয়ে যান… চিরদিনের মতো।
তার রেখে যাওয়া তথ্যভাণ্ডার—আজও রক্ত ঝরাচ্ছে!
ক্যাথরিনের সংগৃহীত তথ্য আজও ইসরায়েলি অপারেশনে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার প্রতিটি নোট, প্রতিটি রেকর্ডিং—
রূপ নিয়েছে অস্ত্র, পরিণত হয়েছে মৃত্যু-পরোয়ানায়। এই গুপ্তচরবৃত্তি কাহিনি কেবল একটি গোয়েন্দা অভিযানের গল্প নয়, এটা একটি রাষ্ট্র-স্তরের নিরাপত্তা বিপর্যয়। যেখানে যুদ্ধ হয়না অস্ত্র দিয়ে, যুদ্ধ হয় কফির কাপে ভেসে আসা বিশ্বাস দিয়ে।
এই ছায়াযুদ্ধের সবচেয়ে ভয়ানক দিক হলো—এটা কেউ দেখতে পায় না।
না থাকে বিস্ফোরণ, না থাকে আগুনের লেলিহান শিখা। থাকে শুধু এক নারীর কোমল হাসি, বিশ্বাসের অভিনয়,
আর তার আড়ালে একটা রাষ্ট্রের পতনের পদধ্বনি।
আজও ইরান এই আঘাতের অভিঘাতে কাঁপছে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর উচিত— সতর্ক হওয়া, সাবধান হওয়া, কারণ হয়তো এই মুহূর্তেও, কোনো ক্যাথরিন বসে আছে, আপনার স্ত্রীকে 'বন্ধু' বলে গল্প শুনছে— আর আপনার মৃত্যুর ছক একে ফেলছে!
একটা নারী, একটা বিশ্বাস, আর একটা দেশ—সব হারিয়ে ফেলে যদি আমরা না জানি, কে আসলে বন্ধু আর কে গুপ্ত ঘাতক।

