Latest

সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

অজানা এক ইহুদি পরিবার - রথচাইল্ড পরিবারের অজানা ইতিহাস

 *** ভিডিওটি ইউটিউবে দেখতে এই পোষ্টের নিচে যান ***

রথচাইল্ড পরিবারের অজানা ইতিহাস

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এই পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যাক্তি কে বা সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি কে? আপনাকে এই প্রশ্ন গুলো করা হলে তার উত্তরে আপনার জবাব আসবে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যাক্তি অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি স্পেস এক্স এর  প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। কিন্তু আপনি অবাক হবেন যে কারনে, তা হোল আপনার ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। আজ এই ভিডিওটিতে আপনারা এমন এক পরিবার সম্পর্কে জানতে পারবেন যারা ২০০ বছর ধরে এই পৃথিবী শাসন করে আসছে এবং এখন পর্যন্ত তারাই হর্তা-কর্তা। কি অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন এরা আবার কারা? হ্যা, দুনিয়ার একমাত্র ট্রিলিওনিয়ার (Trillionaire) ও ক্ষমতাধর পরিবার রথচাইল্ড বা RedShield.


পুঁজিবাদী বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান এই পরিবারের সদস্যদের সম্মানার্থে এখন পর্যন্ত ১৫৩টি পতঙ্গ, ৫৮টি পাখি, ১৮টি স্তন্যপায়ী, ১৪টি উদ্ভিদ, ৩টি মাছ, ৩টি মাকড়শা এবং ২টি সরীসৃপের বৈজ্ঞানিক নামকরণ করা হয়েছে।


ইহুদী পরিবারটির সদস্যদের নামে ইসরাইলের অসংখ্য রাস্তাঘাট ও বেশ কিছু স্থানের নামকরণ করা হয়েছে। এমন কী এন্টারটিকায় Rothschild Island নামে একটা দ্বীপ পর্যন্ত তাদের রয়েছে।


২০০ বছর ধরে পুঁজিবাদী দুনিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর পরিবার Rothschild বা Red Shield।  তাহলে কেন আমরা তাদেরকে চিনি না?? আসলে আমরা তাদের চিনি। তবে একটু ভিন্ন নামে। সে ব্যপারে পরে আসি। গত ২০০ বছরের পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটা প্রায় সব কিছুতেই ছিল তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত। আজকের এই পুঁজিবাদী অর্থনীতি তাদেরই হাতে গড়া।


এবার চলুন একটু পেছনে ফিরে যায়।

শুরু করা যাক, Mayer Amschel Rothschild নামক এই জার্মান ভদ্রলোক’কে দিয়ে, যাকে বলা হয়, "Founding father of international finance," তিনি Rothschild banking dynasty-এর Founding Father.


টাকা পয়সার কারবারের সাথে তার পরিচয় ঘটেছিল পারিবারিক সুত্রে। তার বাবার ছিলো goods-trading and currency exchange-এর ব্যবসা। পৈত্রিক ব্যবসার হাল ধরেন M.A Rothschild, ১৭৫৭ সালের দিকে। ফ্রেন্স বিপ্লবের ফায়দালুটে সে তার banking ব্যবসাকে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বানায়।


French বিপ্লবের সময় ব্রিটিশ সরকার Rothschild কে বিপুল অংকের টাকা দিতে থাকে। উদ্দেশ্য ছিল অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটে জার্মান যোদ্ধা বা গুন্ডামাস্তানদের ফ্রান্সে পাঠানো। ফ্রেন্স বিল্পবীদের সামরিকভাবে সাহায্য করার জন্য!! কিন্তু Rothschild সেই টাকা নিজেদের পকেটে ঢোকাতে শুরু করে। ১০ টাকা দিলে ৩ টাকা ব্যয় করতো। বাকি ৭ টাকা নিজেদের পকেটে ভরতো।


ব্যাংকিং-এর সাথেসাথে বিবিধ ব্যবসা বানিজ্যের ডালপালা খুলতে শুরু করে Red shield. M.A Rothschild এর ১০ ছেলেমেয়ে ছিল। এদের ভেতর সবচেয়ে ধূর্ত আর আলোচিত Nathan Mayer Rothschild। তাকে ২০ হাজার পাউন্ড মূলধন দিয়ে জার্মানি থেকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়, textile importing ব্যবসা চালু করার জন্য। 


২০ হাজার পাউন্ড আজকের ১৮ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড বা বাংলাদেশের ২১ কোটি টাকার সমান। Nathan Mayer-এর শরীরে চিরায়ত ইহুদী ব্যবসায়ী রক্ত। ব্যবসায় সাফল্য পেতে তেমন সময় লাগেনি তার। ১৮০৪ সালে সে নিজেই লন্ডনে একটা ব্যাংক খুলে বসে। সে হয়ে যায় ব্রিটিশ নাগরিক। শুরু করে Rothschild banking family of England


একইভাবে, ১৮১১ সালে ছোটছেলে Jakob Mayer Rothschild-কে পাঠানো হয় প্যারিসে। সেখানে সে Rothschild-এর French branch খোলে এবং ফ্রান্সের নাগরিক হয়ে যায়।


১৮১২, বাবা M.A Rothschild মারা গেলে জার্মান branch এর দায়িত্ব নেন মেঝ ছেলে A.M Rothschild।


পরবর্তীতে, আরেক ছেলে Salomon Mayer Rothschild ১৮২০ সালে অস্ট্রিয়ায় এবং তার আরেক ছেলে Carl Mayer Rothschild ১৮২১ সালে ইতালিতে Rothschild house খোলেন।


Rothschild বা Red shield এভাবে multinational হয়ে যায়। পাঁচ ভাই শুধু পাঁচটা দেশের ব্যবসায়ী নয়, সেই দেশের নাগরিকও বটে। অর্থাৎ Red Shield হয়ে যায় Multinational Family


এ তো গেল বিস্তৃতির সময়কাল। এবার Red shield এর মহীরুহ হয়ে ওঠার ইতিহাস।


ফ্রেন্স বিপ্লবের ফলসরূপ ১৮০৪ সালে ফ্রান্সের ক্ষমতায় আসে Napoleon Bonaparte।


এরপর থেকে ১৮১৫ সাল পর্যন্ত, একটার পর একটা যুদ্ধ লেগেই থাকে গোটা ইউরোপ জুড়ে।

আর অদ্ভুত ব্যাপার হল, এসব যুদ্ধ’কে একরকম জুয়াখেলার মত ব্যবহার করে Red shield তাদের নিজেদের ভাগ্য বিনির্মাণে !


১৮০৯ সালে ফ্রান্স আর অস্ট্রিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধের আগে M.A Rothschild অস্ট্রিয়াকে ৬ লাখ ২০ হাজার gulden দিয়েছিলো। Gulden হল German এবং Dutch স্বর্ণ মুদ্রা। মাত্র একদিন পরেই তার ছেলে A.M Rothschild ফ্রেন্স আর্মিকে ২ লাখ ৫০ হাজার gulden দিলো। অর্থাৎ তারা technically দুই পক্ষকেই আর্থিকভাবে সাপোর্ট দিল।


এতে করে, দিনশেষে যে দেশ যুদ্ধে জিতে যেত, সে দেশ Rothschild এর প্রতি অনুগত হয়ে পড়ত এবং তাকে ব্যবসা করার সুযোগ সুবিধা দিত। আর যে দেশ হেরে যেত, সে দেশ পড়ত Rothschild এর দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ খপ্পরে। কিন্তু পরাজিত দেশ হিসেবে নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখা বড় সমস্যা হয়ে যেত, Rothschild এর ঋণ পরিশোধ করবে কীভাবে?? ফল সরুপ, সমগ্র দেশটি Rothschild এর কাছে Economically দীর্ঘ মেয়াদী ফাঁদে আটকে যেত। রথ চাইল্ড তখন একরকম নিজে নিজে দেশটিকে টেনে তুলতো।


তখন ইউরোপে যুদ্ধ লেগেই থাকতো। ইউরোপের সবগুলো দেশেই তখন budget ঘাটতি ছিলো। যার কারণে সবদেশেই লোণের দরকার পড়ত। Rothschild bank তখন কাজ করত একালের বিশ্বব্যাংকের মত। ১৮০৬ সালের দিকে ইউরোপের প্রায় সবগুলো দেশের বাজেট করা হয়েছিল সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা মাথায় নিয়ে। এসময় Rothschild একাই Russia, Prussia, Austria, France আর স্পেন’কে দিয়েছিলো মোট ১২ million Francs. তাদের এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার experiment অনেক কাজ দিলো। সমগ্র দুনিয়ার শেয়ার বাজারে Rothschild এর শেয়ার কেনার ধুম পড়ে গেল।


ফলসরুপ, Rothschild ফুলে ফেপে উঠলো। ১৮১২ সাল। নেপোলিয়নের অপ্রতিরোধ্য আর্মি রাশিয়া আক্রমন করল। ১৪ টি দেশ একসাথে আক্রমন করল রাশিয়া’কে। ইতিহাসে যা, Patriotic War of 1812 নামে পরিচিত। শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার বিজয় দিয়ে নেপোলিয়নের জয়রথ থামলো। নেপোলিয়নেলর সেনাবাহিনী খুব খারাপ ভাবে খতিগ্রস্থ হোল।


অবশেষে, ১৮১৩ সালে Battle of Leipzig-এ হারার পর ইতিহাসের এই বিখ্যাত character দেশ ছেঁড়ে ইতালির Elba দ্বীপে নির্বাসনে চলে গেল। বলা বাহুল্য, এসব যুদ্ধেও বরাবরের মত sponsorship দিয়েছিল Red Shield এবং বরাবরের মতই যা ছিল উভয় পক্ষের জন্যে।


১৮১৫ সালে নেপোলিয়ন Elba দ্বীপ থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে আসে। অভুতপূর্বভাবে, সে আবার ফ্রান্সের ক্ষমতা ফিরে পায়। Rothschild বস্তা বস্তা অর্থ ঢেলে দ্রুততম সময়ে আবার নেপোলিয়নের আর্মিকে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে। অন্যদিকে নেপোলিয়ন ক্ষমতা ফিরে পাওয়াতে ইউরোপে আবার যুদ্ধের জুজু চেপে বসে। ব্যস, এদিক থেকেও Rothschild ফায়দা লোটে। Russia, Prussia, Britain, Austria, Sweden, Saxony, Denmark, Wurttemberg, Bavaria সবাই Rothschild এর কাছ থেকে অগ্রিম যুদ্ধ ঋণ নিয়ে তাদের মিলিটারি প্রস্তুত করতে শুরু করে। ১৮১৫ সালে Rothschild দেশগুলোকে মোট ৯৮ লক্ষ পাউন্ড ঋণ দেয়।


ব্যাপারটা এভাবে কল্পনা করুণ যে, বাংলাদেশ - ভারতে যুদ্ধ হচ্ছে। ভারতীয় আর্মিকে Red shield এর ভারতীয় branch টাকা দিচ্ছে। আবার বাংলাদেশ আর্মিকে Red shield এর বাংলাদেশী branch টাকা দিচ্ছে। এখন দুদেশের একটি সরকারও তার নিজ দেশের branch কে অভিযোগ করতে পারবে না যে তোমরা কেন অন্যদেশকে টাকা দিচ্ছ!! কারণ branch গুলো সম্পূর্ণ সাধীন। সেই সাথে branch গুলো নিজ নিজ দেশের নাগরিক দিয়ে পরিচালিত। আগেই বলেছি, তারা পাঁচ ভাই পাঁচ দেশের নাগরিক।


১৮১৫ সালের জুন মাস।

প্যারিস থেকে ২০০ মাইল দূরে Battle of Waterloo, বর্তমান বেলজিয়ামে ব্রিটিশ আর্মির মুখোমুখি হয় নেপোলিয়ান। এদিন ব্রিটিশ শেয়ার বাজারে আগেভাগে উপস্থিত Nathan Rothschild এবং ওদিকে তার ভাই Jakob উপস্থিত ফ্রান্সে। দু’দেশের আর্মিতেই Rothschild agent আছে। তারা ভাল করেই আন্দাজ করতে পারে, যুদ্ধের ফলাফল কী হবে।

আসলে, এই যুদ্ধে ইংল্যান্ডের জয়ের খবর ব্রিটিশ সরকার পাবার আগেই Nathan Rothschild পেয়ে যান তার agent-এর মাধ্যমে। তখনকার পেক্ষাপটে খবর নিয়ে আসতো বার্তা বাহকেরা। Red shield ব্রিটিশ বার্তাবাহকদের পথে নাশকতা করে। এতে ইংল্যান্ডের সরকারের কাছে জয়ের খবর আসতে দেরি হয়।


তো, গোপনে Nathan Rothschild জয়ের খবর পাওয়া মাত্র এমন ভাব ধরেন যে তিনি কিছু জানেন না। উল্টা তিনি ব্রিটিশ শেয়ার বাজারে পানির দামে নিজের অংশীদারে থাকা govt. bond বিক্রি করতে শুরু করেন। শেয়ার বাজারের সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তারা সকলে ধারনা করে, Nathan Rothschild-এর কাছে খবর আছে, ইংল্যান্ড যুদ্ধে হেরে গেছে। অথচ ইংল্যান্ড কিন্তু যুদ্ধে জিতেছে !!

Nathan Rothschild এর এই মিথ্যা ভয় দেখানো নাটক কাজে আসে। ভয়ে মানুষ পাইকারি হারে তাদের অংশীদারে থাকা Govt. bond বিক্রি করতে শুরু করে। After all, তারা ধারনা করেছে যে, ব্রিটিশরা হেরে গেছে।


ব্রিটেন হয়ত কিছুদিনের মধ্যে নেপোলিয়ান দখল করে নিতে পারে। সেক্ষেত্রে আগেভাগে সব শেয়ার বেঁচে দিয়ে কোনমতে অল্প কিছু নিয়ে কেটে পরাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।


কিন্তু বিক্রি করবে কাকে?? কোন পাগল এখন শেয়ার কিনবে??


ধূর্ত Nathan Rothschild আগে থেকেই তার কিছু লোক শেয়ার বাজারে setting দিয়ে রেখেছিলেন। যে মুহূর্তে শেয়ার বাজারে ধস নামলো, পাইকারিহারে তারা share কেনা শুরু করলেন।


ফলসরূপ, যতক্ষনে ব্রিটিশদের কাছে waterloo জয়ের খবর পৌঁছালো,  ততক্ষনে শেয়ারবাজার Nathan Rothschild-এর দখলে। দিনের আলো না নিভতেই Nathan Rothschild ইংল্যান্ডের সেরা ধনী। একদিনের ভেতরে তার দখলে শুধু বন্ড মার্কেট নয়, Bank of England অর্থাৎ England এর central Bank। Bank of England হল প্রথম বেসরকারী মালিকানাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


এরপর থেকে Red shield হয়ে যায় অপ্রতিরোধ্য শক্তির নাম। ১৮১৪ থেকে ১৯১৪ এর মধ্যে  Rothschild বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাংক ছিল। সবগুলো দেশের ভয়াবহ যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে একরকম Rothschild ই ভরসা হয়ে দাড়ায়।


১৮১৮ সাল,

এর কিছুদিন পর গ্রিসকে স্বাধীন রাজতন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলতে Red Shield অর্থ ঢালে। এমন কী, গ্রিসের শাসক কে হবে, এসবও Red shield তাদের ইচ্ছা ও পছন্দ অনুসারে নির্ধারণ করত।


Red shield-এর রাজনৈতিক প্রভাব ছিলো সব জায়গায়। সেইসাথে উনবিংশ শতাব্দীতে বেসরকারীকরন গুলোতে হস্তক্ষেপ করা ছিলো তাদের অন্যতম লক্ষ। তখন বড়বড় ইউরোপীয় রাজতন্তের রাজাবাদশাহ দের অর্থনৈতিক সাহায্য, পরামর্শ, বীমা সবই করত Rothschild, একরকম একচেটিয়াভাবে।


১৮৩৫ সালের দিক থেকেই gold, Aluminum, কপার, রুবি, এসবের যাবতীয় খনন কাজে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করে Rothschild.


১৮৩৫ সালে, রেড শিল্ড স্পেনের আলমাদেন কুইসিলবার খনিতে অধিকার অর্জন করে।


১৮৭৩ সালে, ইউরোপের সবচেয়ে বড় তামার উৎস Rio Tinto তে Rothschild shareholders হয়ে ওঠে। এটি স্প্যানিশ সরকারের অন্তর্গত ছিল। 


ইউরোপে ১৮৭৫ সালের দিকে অন্তঃদেশীয় রেল নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয় Rothschild এর অর্থায়নে।


১৮৭৫ সালে চড়া সুদে British Govt. কে অর্থ প্রদান করে, সুয়েজখালের একটা বড় অংশ নিজেদের দখলে নেয়ার উদ্দেশ্যে। ১৮৭৫ সালের চুক্তিটি সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যাংক লেনদেনের একটি যা সম্পন্ন হয়েছিল Lionel de Rothschild এর মাধ্যমে। ১৮৮৬ সালে, ফরাসি রথসচাইল্ড ব্যাংক, ডি রথসচাইল্ড ফ্রেইস রাশিয়ান তেল উৎপাদন ক্ষেত্রগুলির উন্নতিতে প্রচুর অর্থ ঢালতে শুরু করে।


ব্যাংকটি কাশপিয়ান এবং Black see পেট্রোলিয়াম company গঠন করে, যা দ্রুত এই অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী company তে পরিনত হয়। ১৮৮৭ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকায় কিম্বারলি হীরার খনিগুলির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল “রথসচাইল্ড ডি বিয়ার্স” প্রতিষ্ঠান।


অর্থাৎ, ১৯০০ সালের শুরুর দিকে, পুঁজিবাদ কাহাকে বলে, কীভাবে তার ১০০% ফায়দা নিতে হয়, এটা Rothschild দেখিয়ে দেয়। সর্বোপরি আজকের আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা মুলত তাদেরই চিন্তা চেতনার ফসল। আমেরিকাতে Rothschild এর প্রভাব ছিল সুদুরপ্রসারী। অনেক বিস্তৃত। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে বরাবরের মতই তারা sponsor দিয়েছিলো


আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারশন তাদের মাজা ভেঙ্গে দিলেও ঠিকই তারা সময়ের অপেক্ষায় থাকে। আমেরিকার হর্তাকর্তা JP Morgan বা Rockefeller-দের পার্টনার হিসেবে Rothschild কাজ করত। JP Morgan-এর মত লোক রীতিমত Godfather তুল্য সম্মান করতেন Rothschild-দের।


এদেরকে সাথে নিয়েই গড়ে ওঠে ফ্রি মেসন, মেসন, ইলুমিনাটি, secret society, বিল্ডারবার্গ। শুরু হয় তাদের ম্যাসোনিক কাল্ট।


বিংশ শতাব্দীতে তাদের কর্মকান্ডে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। Rothschild হঠাত পর্দার আড়ালে চলে যেতে শুরু করে। সেইসাথে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন করার কিছু নতুন formula বাস্তবে রুপ দিতে উদ্যোগ নেয়। এভাবেই আসে Federal Reserve Bank।


ব্রিটেনের Bank of England বা ফ্রান্সের Central Bank-এর আদলে গড়া মার্কিন Central Bank. যা হবে, Private মালিকানায়। বলার অপেক্ষা রাখে না Rothschild নোট বা কারেন্সি ইসুতে চরম আধিপত্য খুজছেন।


১৯১৩ সাল থেকে ফেডারেল রিজার্ভ দুনিয়ার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। এরাই private মালিকানায় Dollar বানায়।


জি হ্যা, ডলার একটা private property যা মার্কিন সরকারে নিয়ন্ত্রনের বাইরে।


ফেডারেল রিজার্ভের অন্যতম হর্তাকর্তা এখনো Red Shield, Federal Reserve এর মাস্টারমাইন্ড Paul Warburg ছিলেন রেড শিল্ড এর সিক্রেট এজেন্ট।


বর্তমানকালে সমগ্র দুনিয়ার সব central bank গুলো নিয়ন্ত্রন করে BIS (The Bank for International Settlements) এটারও অন্যতম নীতি নির্ধারক বা হর্তাকর্তা RED SHIELD


আবার পেছনে ফিরি।

তো, এতকিছু করতে গিয়ে Rothschild মানুষের শত্রুতে পরিনত হয়।


সমগ্র ইউরোপে তখন বাসা বেধেছে ইহুদী বিদ্বেষবাদ। তখন প্রায় সব দেশেগুলোর অর্থনীতিই কোনো না কোনো ভাবে ইহুদীদের দখলে ছিল।


যারা হিটলারের লেখা ‘মাইন ক্যাম্ফ’ বইটি পড়েছেন, তারা হয়ত সেই সময়ের  ইহুদী বিদ্বেষী মানুষগুলোর চিন্তা চেতনার ব্যাপারে কিছুটা হলেও জানতে পারবেন।


আসল কথা হল, আমজনতা কখনো জমিদার বা মোড়ল জাতীয় মানুষদের পছন্দ করে না। তা সে যত দয়ালু জমিদারই হোক না কেন।  Rothschild এর মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাড়ায় রুশ বিপ্লব। লেনিনের কম্যুনিস্ট রাশিয়া বা সোভিয়েত ইউনিয়ন। সম্পূর্ণ বিরোধী পুঁজিবাদ ব্যবস্থা। যেখানে Rothschild দের ধান্দার সুযোগ কম। অবাক হবেন হয়ত, হিটলারের Nazi উত্থানের শুরুর দিকে অন্যতম sponsor ছিল Red Shield. যদিও তারা Jews ছিল।


তারা ধারনা করেছিলো, কম্যুনিস্ট রাশিয়া’কে শায়েস্তা করতে হিটলারে মত ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করা লোক লাগবে। হিটলার ইহুদী বিদ্বেষবাদী হলেও সেটা হয়ত সহজেই ম্যানেজেবল।

কিন্তু ঘটে উল্টোটা। সমগ্র বিষয়টি ব্যাকফায়ার করে। হিটলার যে পশুর মত নির্বিচারে নিরীহ মানুষ হত্যার নেশার মেতে উঠবে, এটা Rothschild কল্পনাতেও আনে নি।


যাই হোক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইহুদিদের কোথায় পুরনবাসন করা হবে, এটা নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আলোচনা শুরু হয়।


Madagascar, ব্রাজিলের Mato Grosso নামক স্টেটকে স্বাধীন করে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, অথবা সুদান, কেনিয়া, northern Rhodesia বর্তমানে জিম্বাবুয়ে, গায়ানা, সবগুলোই টেবিলে ছিল। কারণ এসব জায়গায় ব্রিটিশ সম্রাজ্য ইহুদীদের afford করার সামর্থ রাখতো।


যাই হোক, Rothschild এর হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত প্যালেস্টাইনকে বেছে নেয়া হয়। কারণ, এখনকার ইসরাইল বা প্যালেস্টাইন ছিল ব্রিটিশদের দখলে। এ জায়গা দেয়া তাদের জন্য তেমন কঠিন ছিল না। একটা কলমের খোঁচার ব্যাপার মাত্র।


যেনে কেবলই অবাক হবেন যে আজ পর্যন্ত Rothschild ফ্যামিলির সম্পদের অডিট হয় নি।


কেনো Rothschild এর সম্পত্তির হিসাব করা হয় নি। আসলে, তাদের সম্পত্তির কোনো সত্যিকারের হিসাব নেই।


প্রশ্ন হতে পারে, কেন নেই?? অনেক কারণেই নেই।

এর একটা হল, তারা food chain-এ সবার উপরে। তাদের উপরে অন্তত পুঁজিবাদী বিশ্বে আর কেউ নেই। দ্বিতীয়ত, বা সবচেয়ে বড় কারণ, তারা তাদের সম্পত্তির প্রায় সবই রেখেছে Gold হিসেবে। দুনিয়ার প্রতিটি উন্নত দেশে rothschild house আছে। যাতে আছে তাদের Gold vault.


কেন করেছে এমন??

ধরুন, আগামীকাল বাংলাদেশ আমেরিকা দখল করে নিল। তো, বাংলাদেশ আমেরিকা দখল করে প্রথমেই যে ঘোষণা দেবে, তা হল আমেরিকার Fiat money আর Representative money বাতিল। অর্থাৎ ডলারে কোনো মুল্য নেই। ভালো হয় তখন ডলার গুলোকে চুলোয় জ্বালিয়ে ভাত রান্না করুণ।


অতঃপর সুলতান মাহমুদ যেভাবে ১৭ বার সোমনাথ মন্দির আক্রমন করে Gold লুটপাট করেছিলেন, বাংলাদেশ তেমনি আমেরিকার মজুদ Gold লুটপাট করবে। ফলসরূপ, ব্যেচারা বিল গেইটস আর ওয়ারেন বাফেট রাস্তার ভিক্ষারি হয়ে যাবে! কিন্তু কোনো ভাবেই আপনি commodity money নষ্ট করতে পারবেন না। অর্থাৎ GOLD, গোল্ড নিয়ে যেখানেই যাবেন, সেখানেই তার দাম আছে। এর intrinsic ভ্যালু কখনো নষ্ট হবে না। অর্থাৎ, আপনি ফকির হবেন না।


ইরাক দখল হবার পর ইরাকীরা কীভাবে সাদ্দামের ছবিওয়ালা ইরাকী নোট রাস্তার দাড়িয়ে আগুনে পুড়িয়েছিল, সেটা নিশ্চয় সবার মনে আছে। কারণ ইরাকী দিনারের তখন আর কোনো ভ্যালু ছিল না। ওসব তখন কেবলই কাগজ...


এসব কারনেই দেখবেন, তৃতীয় বিশ্ব বা উন্নয়নশীল দেশের বড়বড় ব্যবসায়ীরা তাদের টাকা পয়সা বিদেশী ব্যাংকে রাখে। কারণ নিরাপত্তা বেশি থাকে।


একজন ইরাকি ধনুকুব নিশ্চয় তার টাকা পয়সা ইরাকী ব্যাংকের চেয়ে সুইস বা মার্কিন ব্যাংকে রাখার ইচ্ছা বেশি পোষণ করবেন। কারণ, সেখানে নিরাপত্তা বেশি।


যেমন ইরানের প্রতি আমেরিকার রাগের অনেকগুলো কারনের অন্যতম হল, ইরান তেলের যত deal করে, সবগুলো করে GOLD দিয়ে। অর্থাৎ, তেলের বিনিময়ে GOLD, not dollar

ঠিক rothschild style এ....


এভাবে কল্পনাকরুণ, Rothschild বা JP Morgan হল বিশাল জমিদার। তাদের আন্ডারে অজস্র কৃষক কাজ করে। কারো জমিতে ফসল বেশি হয়, কারো কম হয়। বিল গেইটস নামক কৃষকের জমিতে ফসল সবচেয়ে বেশি ফলেছে। তো একদিন বন্যায় সব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে গেল। সবাই পথে বসে গেল।


কিন্তু জমিদার?? তার তো সম্পত্তি আছেই...

জমি... আবাদি জমি... জমিদারের সাময়িক ক্ষতি হলেও, দীর্ঘমেয়াদী কোনো ক্ষতি হবে না।
ব্যাপারটা আশা করি, কিছুটা হলেও বুঝাতে পারলাম... এখানে জমিটা হল capitalism system.

প্রশ্ন করতে পারেন, বিল গেইটস কেন Rothschild হতে পারবে না। কারণ বিল গেইটস বা বাফেট Rothschild বা JP Morgan দের মত মানুষের তৈরি সিস্টেমের খেলোয়ার। আর Rothschild হল সিস্টেম। সিস্টেমের বাইরে গিয়ে কিছু করার ক্ষমতা তারই আছে যে সিস্টেম পরিচালনা করে। আশা করি, বুঝেছেন। অনেকটা ফুটবল টিমের ম্যানেজার আর বেস্ট প্লেয়ারের মধ্যে থাকা সম্পর্কের মত।


হঠাতই, কিছু অজানা কারনে Rothschild ফ্যামিলি এখন এতটাই আড়ালে চলে গেছে যে তাদের সম্পর্কে একালের মানুষ তেমন একটা কিছুই জানে না। যা জানে, কেবলই তাদের গড়া মেসন, ফ্রি মেসন, ইলুমিনাটি, secret society নিয়ে...


তারা এখন কেবলই পর্দার আড়ালে থাকা কিছু মানুষজন যারা পুঁজিবাদী দুনিয়ার হর্তাকর্তা। প্রচলিত ব্যবসায়িক মানুষ যে কোনো কিছু নিয়ে একা সিন্ধান্ত নেয়। এখানে আসে ফ্যামিলি ব্যবসার পার্থক্য। এখানে বড় বড় ব্যবসায় সিদ্ধান্ত নিতে secret meeting বসে। Rothschild এর অর্থের প্রয়োজন হয় না, ডলার পাউন্ড, ইউরো যাই হোক না কেন, কারন তারা নিজেরাই টাকা। 


বর্তমানে House of Rothschild এর Head হলেন England এর নাগরিক Evelyn de Rothschild। তার উইকি পেজে গিয়ে দেখবেন, তার সম্পত্তির কিছুই লিখা নেই। যেটা খুবই স্বাভাবিক। Rothschild Family’র wiki তে অন্য সকল তথ্য পেলেও তাদের সম্পত্তির হিসাব পাবেন না।


ডজন খানেকের উপরে বাড়িঘরের ছবি দেখতে পাবেন, যেগুলো আপনার চোখ ধাঁদিয়ে দেবে।

মজা করে বলা হয়, ইউরোপের কোনো উন্নত দেশে গিয়ে যদি সবচেয়ে সুন্দর বাড়ি আবিষ্কার করেন, আর তার মালিকের পরিচয় যদি সঠিকভাবে বের করতে না পারেন, তাহলে চোখ বুঝে ধরে নিন, সেটা Rothschild ফ্যামিলির।



Sir Lord Evelyn Rothschild-কে মাঝে মাঝে BBC তে দেখা যায়। বিভিন্ন ইস্যুতে তার সাথে কথা বলে সাংবাদিকরা। Rothschild ফ্যামিলি এখন এত বড় হয়ে গেছে যে সমগ্র ইউরোপ আমেরিকা জুড়ে তাদের by born citizen এ ভরা।


একজনকে সবাই চেনেন। নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত সেন। তার স্ত্রীর নাম Emma Georgina Rothschild। তিনি Rothschild ফ্যামিলির বর্তমান জেনারেশনের অসংখ্য সদস্যের ভেতর একজন। 

বড়বড় লোকদের উঠাবসা বড়বড় লোকেদের সাথেই হয়। লিংক মেন্টেন করাটা অনেক গুরুত্বপুর্ন। সেটা যেভাবেই হোক। ডঃ সেন যে অনেক বড় ক্ষমতাধর, সেটা বোঝা যাচ্ছে। যতটা ক্ষমতাধর মনে করা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি। তার হাত অনেক লম্বা।


২০০০ সালের ৩০শে নভেম্বর,

স্যার Evelyn Rothschild তৃতীয় বারের মত বিয়ে করেন। মার্কিন সরকারে বিশেষ অনুরোধে, তাদের honeymoon হয় কোথায় জানেন?? White house –এ। অনেক জোরাজোরির পর Sir Evelyn Rothschild রাজি হয়েছিলেন white house এ বাসররাত কাটাতে।


এই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর পরিবারের ইতিহাস। আজ এ পর্যন্তই। আমাদের লেখাটি কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করবেন এবং আপনার বন্ধুদের পড়তে উৎসাহিত করবেন। ধন্যবাদ।

ইউটিউবে দেখুনঃ

ক্যাটাগরিঃ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.