ফ্রান্সের উত্তর আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে ঔপনিবেশিক নৃশংসতা
চাদে ফ্রান্সের দখল (১৯১৭)
১৯১৭ সালে ফ্রান্স চাদ দখলের সময় ঔপনিবেশিক বাহিনী ৪০০ মুসলিম আলেমকে কুড়াল দিয়ে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করে। এই নৃশংস কাজটি ছিল স্থানীয় প্রতিরোধ দমন এবং অঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফ্রান্সের প্রচেষ্টার অংশ।
আলজেরিয়ার লাগুয়াতে গণহত্যা (১৮৫২)
১৮৫২ সালে ফ্রান্সের বাহিনী যখন আলজেরিয়ার লাগুয়াত শহরে প্রবেশ করে, তখন তারা শহরের দুই-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যাকে হত্যা করে। এক রাতের মধ্যে তারা অনেক বাসিন্দাকে জীবন্ত পুড়িয়ে দেয়, যা আলজেরিয়ায় ফ্রান্সের প্রাথমিক ঔপনিবেশিক শাসনের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি।
আলজেরিয়ায় পারমাণবিক পরীক্ষা (১৯৬০–১৯৬৬)
১৯৬০ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে ফ্রান্স আলজেরিয়ার সাহারা মরুভূমিতে ১৭টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। এই পরীক্ষাগুলোর ফলে আনুমানিক ২৭,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মানুষ হতাহত হয়, যার পরিবেশগত এবং স্বাস্থ্যগত প্রভাব আজও বিদ্যমান। সঠিক হতাহতের সংখ্যা সীমিত তথ্যের কারণে অনিশ্চিত।
আলজেরিয়ায় মাইন (১৯৬২)
১৯৬২ সালে আলজেরিয়া থেকে প্রত্যাহারের সময় ফ্রান্স প্রায় ১১ মিলিয়ন মাইন রেখে যায়, যা সে সময়ের দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এই মাইনগুলো কয়েক দশক ধরে বেসামরিক মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে ওঠে এবং ঔপনিবেশিক-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে বাধা সৃষ্টি করে।
আলজেরিয়ায় ফ্রান্সের দখল (১৮৩০–১৯৬২)
ফ্রান্স ১৮৩০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ১৩২ বছর ধরে আলজেরিয়া দখল করে রাখে। তাদের শাসনের প্রথম সাত বছরে আনুমানিক ১ মিলিয়ন মুসলিমকে হত্যা করা হয়। আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, শেষ সাত বছরে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মুসলিম নিহত হয়। ফরাসি ঐতিহাসিক জ্যাক গর্কি অনুমান করেছেন যে ১৮৩০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের দখলের সময় মোট ১০ মিলিয়ন মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছিল, যা কোনো আরবের নয়, একজন ফরাসি ঐতিহাসিকের বক্তব্য।
অন্যান্য অঞ্চলে ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসন

ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক প্রভাব আলজেরিয়ার বাইরেও বিস্তৃত ছিল:
তিউনিসিয়া: ৭৫ বছর দখল (১৮৮১–১৯৫৬)।
মরক্কো: ৪৪ বছর দখল (১৯১২–১৯৫৬)।
মরিতানিয়া: ৬০ বছর দখল (১৯০৪–১৯৬০)।
মিশরে ফ্রান্সের অভিযান (১৭৯৮–১৮০১)
নেপোলিয়নের মিশর অভিযানের সময় ফরাসি সৈন্যরা অসংখ্য নৃশংসতা সংঘটিত করে। তারা ঘোড়ার পিঠে মসজিদে প্রবেশ করে, পবিত্র স্থানে মদ পান করে এবং মসজিদের কিছু অংশকে তাদের ঘোড়ার আস্তাবলে পরিণত করে। এছাড়া, ফরাসি সৈন্যরা পরিবারের সামনে নারীদের ধর্ষণ করে, যা সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন ছিল।
পশ্চিমা ঔপনিবেশিক ইতিহাস ও ভণ্ডামি
ইসলামকে "সন্ত্রাসের ধর্ম" হিসেবে চিত্রিত করার আখ্যান পশ্চিমা ঔপনিবেশিকতার হিংস্র ইতিহাসকে উপেক্ষা করে। ৪৫০ বছরে পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তি, যার মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম, বিশ্বব্যাপী ৫০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছে বলে অনুমান করা হয়। এই অন্ধকার ইতিহাস সত্ত্বেও, কেউ কেউ পশ্চিমা সভ্যতার প্রশংসা করে এবং এমনকি এর ঔপনিবেশিক নৃশংসতার পক্ষে সাফাই গায়, যা একটি বিস্ময়কর দ্বৈত মানসিকতা।
