*** ভিডিওটি ইউটিউবে দেখতে এই পোষ্টের নিচে যান ***
বর্তমান বিশ্বের উন্নত প্রায় সকল দেশগুলোই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। আর সামরিক শক্তিতে অন্যতম হাতিয়ার যুদ্ধ বিমান। একটি যুদ্ধ বিমান কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বড় কোন শহরকে ধংস্তুপে পরিনত করে দিতে পারে।
১. এফ/এ-১৮ হর্নেট - F/A - 18 Hornet
ইউনাইটেড স্টেটস এয়ারফোর্স বা নেভিতে যে সব বিমান রয়েছে তাদের নাম সাধারণত যেকোন একটি অক্ষর যেমন 'এফ', 'এ', 'বি' কিংবা 'সি' দ্বারা শুরু হয়। এই সব অক্ষর কিন্তু শুধু শুধু দেয়া হয় না। এই অক্ষরগুলোর প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে যেমন 'এফ' দ্বারা ফাইটার, 'এ' দ্বারা অ্যাটাক কিংবা 'বি' দ্বারা বম্বার বোঝানো হয়। কিন্তু ম্যাকডোনেল ডগলাস এফ/এ-১৮ হর্নেট সর্বপ্রথম বিমান যা দুইটি টাইটেল একত্রে বহন করছে। অতএব বুঝতেই পারছেন, এটি শত্রুপক্ষের জন্য কত বড় আতঙ্ক।
দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট এফ/এ-১৮ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারফোর্সের নাম্বার ওয়ান যুদ্ধবিমান। এটি যেকোনো আবহাওয়ায় মানিয়ে নিয়ে শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে নির্ভুল নিশানায় ভারি আক্রমন করতে সক্ষম। এই যুদ্ধবিমানটি যাত্রা শুরু করে ১৯৮৪ সালে। প্রতি ঘণ্টায় ১,৯১৫ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন এই বিমান গ্রাউন্ড এবং এরিয়াল উভয় টার্গেটে অ্যাটাক করতে সক্ষম। বর্তমানে এটি ইউএস এয়ারফোর্স ছাড়াও কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, কুয়েত, মালয়েশিয়া, স্পেন এবং সুইজারল্যান্ডের সামরিক বাহিনীতে জায়গা পেয়েছে। এর মূল্য প্রায় ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২. ইএ-১৮ জি গ্রাউলার - EA 18G Growler
এটি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান, অনেকে মনে করে ডাসল্ট রাফাল এর স্পেক্ট্রা সিস্টেম নিজের আত্মরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকরী কিন্তু ইএ-১৮জি রাফাল এর চেয়ে কয়েকগুন শক্তিশালী। এটির জ্যামিং পাওয়ার এতই বেশি যে এটি অ্যান্টি এয়ারক্রাফট রাডার অবজেক্ট খুঁজে বের করে এবং শত্রুপক্ষের কমিউনিকেশন সিস্টেমে নিজের পাঠানো সিগন্যালের মাধ্যমে পুরো জ্যাম করে দিতেও সক্ষম। এছাড়াও এতে দুইটি এইম-১২০/৯এক্স কিংবা এজিএম-৮৮ হার্ম এন্টি রেডিয়েশন মিসাইল থাকে যা দিয়ে আকাশ এর টার্গেট এবং ভুমিতে থাকা রাডারে আক্রমণ করতে সক্ষম। এর মূল্য প্রায় ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩. ভি-টোয়েন্টিটু অস্প্রে - V-22 Osprey
২০০৭ সনের ইরাক যুদ্ধে প্রথম ব্যবহার করা হয় ভি-টোয়েন্টিটু অস্প্রে। টিল্ট রোটরের এই যুদ্ধাবিমান হেলিকপ্টাররে মত উঠা নামা করলেও এটি ফিক্সড উইং প্লেনের চাইতে দ্রুত উড়তে পারে। মারাত্মক শক্তিসম্পন্ন এই বিমানে ৩০ জন ট্রুপারের সিট ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ৯০৭০ কে.জি বহন করতে সক্ষম এই বিমানের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৬৫ কিলোমিটার। এর মূল্য প্রায় ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪. এফ-৩৫ লাইটনিং - F-35 Lightning
এফ-৩৫ লাইটনিং হচ্ছে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি আরো শব্দবিহীন এবং একই ধরনের অন্য বিমানের সাথে সমন্বিত। এর রয়েছে সেন্সর ফিউশন ও উন্নততর লজিস্টিক সাপোর্ট, যা কিনা জঙ্গি বিমানের ইতিহাসে সবচাইতে শক্তিশালী ও ব্যাপক । এই সুপারসনিক মাল্টিরোল জঙ্গি বিমানটি চলে নিঃশব্দে আর এটির রয়েছে এমন ক্ষমতা যে অন্য জঙ্গি বিমান শত্রূর যেসব আকাশসীমায় প্রবেশের কথা ভাবতেও পারে না, এটি সেখানেও ঢুকে যেতে পারে। কারণ, এ বিমানের প্রাগ্রসর স্টিলথ রেডারকে ফাঁকি দিতে পারঙ্গম।
মার্কিন সমরবিভাগের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ডিল সই হয় এই সুপারসনিক ফাইটারের প্রজেক্ট শুরু হওয়ার সময় ২০০১ সালে। ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে কম্পিউটার হ্যাকারদের দ্বারা এই বিমানের ৭.৫ মিলিয়ন কোডের তথ্য পাচার যায়। তাই আমেরিকার প্রতিপক্ষের স্কোয়াডে এই বিমানের দেখা পাওয়া গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এর মূল্য ১২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৫. সি সেভেন্টিন এ গ্লোবমাস্টার
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধ বিমান সি – ১৭এ গ্লোবমাস্টার ৩ (C-17A Globemaster III)।
এই বোয়িং বিমানটি মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য নির্মিত হয়েছিল এবং এটিই মার্কিন সামরিক পরিবহনের সবচেয়ে বড় বিমান।
এটি আমেরিকার বিভিন্ন কৌশলগত মিশনে, সৈন্য এবং মাল পরিবহনে, চিকিৎসা নিরস্ত্রীকরণে ব্যবহার করা হয়। চারটি অতিকায় টার্বোফ্যান ক্রমাগত প্রপেল করে চলে এই গ্লোবমাস্টারকে।
বোয়িং ৭৫৭ তে যে ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছিলো ঠিক সেই ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে এতে। প্রতিবারে ১০২ জন প্যারাট্রুপার ড্রপ করতে পারে এই সি – ১৭এ গ্লোবমাস্টার ৩।
এর সাহায্যেই ইরাক এবং আফগানিস্তানে জরুরী ত্রান এবং সাহায্য পাঠানো হয়েছিলো। আমেরিকান এই সি – ১৭এ গ্লোবমাস্টার ৩ এর দাম প্রায় ৩২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৬. এফ-টোয়েন্টি টু ব়্যাপটর
লিস্টের ২য় স্থানে আছে এফ-২২ রেপটর (F-22 Raptor)।
আমেরিকান এই স্টিলথ ফাইটার এফ-২২ রেপটরই যে বর্তমান সময়ের সেরা ফাইটার এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
স্টিলথ টেকনোলজি, অসাধারন ম্যানুভারিটি ও গতি, অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক সেন্সর ব্যবস্থা – সব মিলিয়ে এফ-২২ রেপটর সত্যিই অসাধারন।
লকহীড মার্টিন দ্বারা মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য নির্মিত এই বিমানটিতে রয়েছে ২টি ইঞ্জিন, ১ টি আসন এবং সমস্ত আবহাওয়ায় স্টিলথ টেকনোলজির (গোপন থাকা) সক্ষমতা।
এই এফ-২২ রেপটর বিমানটি দূরবর্তী মিশাইলকে ধ্বংস করতে পারে, সুপারসনিক গতিতে উড়তে পারে এবং প্রায় সব ধরনের রাডার সনাক্তকরণ এড়াতে পারে।
এই এফ-২২ রেপটর এর দাম প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৭. বি টু স্পিরিট
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধ বিমান হলো বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বার (B-2 Spirit Stealth Bomber) যা শুধুমাত্র স্টিলথ বোম্বার নামেও পরিচিত।
এটি আসলে একটি আমেরিকান ভারী বোমারু বিমান যা তৈরি করেছে নর্থরোপ গ্রুমম্যান। বিমানটিকে সহজে রাডারে শনাক্ত করা যায় না।
একে নির্মাণ করা হয়েছে খুব বড় ধরনের আকাশ পথের যুদ্ধের উপযোগী করে।
আমেরিকান এই বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বারটি প্রচলিত বোমার সাথে নিউক্লীয়ও বোমাও বহন ও বর্ষণ করতে পারে।
বি-২ স্পিরিট-ই একমাত্র বিমান যা দূর আকাশে থেকেও নিজের অবস্থান গোপন করে মাটিতে নির্দিষ্ট লক্ষমাত্রায় বোমা ছুড়তে পারে।
এটি ২৩০ কেজি ওজনের ৮০ টি JDAM GPS নিয়ন্ত্রিত বোমা কিংবা ১,১০০ কেজি ওজনের ১৬টি B83 নিউক্লিয়ার বোমা অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানেও ফেলতে পারে। বর্তমানে আমেরিকান বিমান বাহিনী মোট ২০টি বি-২ স্পিরিট পরিচালনা করছে।
তবে এই বিমানগুলো স্নায়ু যুদ্ধকে সামনে রেখে নির্মাণ হলেও পরবর্তীকালে এগুলো ১৯৯৯ সালে sonঘটিত কসোভো যুদ্ধে, ইরাক যুদ্ধে ও ২০০১-এর আফগানিস্তান যুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়েছে।
আমেরিকান এই বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বার এর মূল্যমান প্রায় ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

