*** ভিডিওটি ইউটিউবে দেখতে এই পোষ্টের নিচে যান ***

শুষ্ক বনাঞ্চলে মাত্রাতিরিক্ত উত্তাপের রেশ ধরে সৃষ্ট আগুন গোটা বন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা দাবানল হিসেবে পরিচিত। বনের ভেতরে ঘন ঝোপঝাড় এবং পরস্পর সংস্পর্শে থাকা গাছপালা স্বতঃস্ফূর্ত দহনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এই অবস্থায় ছোট একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট পুরো বনভূমিকে অঙ্গারে পরিণত করার জন্য।
আজকের ভিডিওতে আমরা জানতে চলেছি দাবানল সম্পর্কে। তার আগে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং পাশের বেল আইকনটি চাপুন নিয়মিত সকল ভিডিওর আপডেট পেতে।
দাবানল (Wildfire) বলতে সাধারণত বনাঞ্চলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডকে বোঝায়। শুষ্ক মৌসুমে জঙ্গলে আগুন লাগলে তা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বিশেষ করে শুষ্ক বনাঞ্চলে দাবানলের প্রবনতা বেশি দেখা যায়। জঙ্গলের শুকনো পাতা থেকে শুরু করে ছোট-বড় গাছ ও ঝোপ ঝাড় এই আগুনে পুড়তে থাকে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। দাবানলের আগুন ঘণ্টায় ৫০ মাইল বেগে চলতে সক্ষম। ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের মতে, আমেরিকার প্রায় ৮৪ শতাংশ দাবানল সৃষ্টি হয়ে থাকে মানুষের কারণে। অযত্নে ফেলে রাখা ক্যাম্প ফায়ারের আগুন বা সিগারেটের আগুনের মতো মানুষের অসতর্ক হয়ে ফেলে রাখা আগুন থেকে দাবানল সৃষ্টি হয়, এছাড়া মানুষ নানা রকম স্বার্থ হাসিলের উদ্যেশ্যেও ইচ্ছাকৃত আগুন লাগিয়ে দাবানলের সৃষ্টি করে। প্রাকৃতিকভাবে দাবানল সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ বজ্রপাত, আগ্নেয়গিরির লাভা, অনাবৃষ্টি ও শুষ্ক আবহাওয়া। বিগত তিন দশকের মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন বন, আফ্রিকার কঙ্গো রেইন ফরেস্ট এলাকাসহ অনেক বনভূমি মানবসৃষ্ট দাবানলে পুড়েছে। অনেক সময় চাষাবাদের জন্য নতুন জমি সৃষ্টি করতে বনে আগুন দেওয়া হয়। দাবানলের আগুন থেকে অগ্নিঝড়, টর্নেডো তৈরি হতে পারে। এর ছাই বহুদূর এমনকি ৩ হাজার মাইল দূর পর্যন্ত চলে যেতে পারে। দাবানলের ফলে ঐ অঞ্চলের গরম বাতাস দ্রুত উপরের দিকে উঠে যেতে থাকে এবং তৎক্ষণাৎ সেখানকার বাতাসের শূন্যস্থান পুরন করতে অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস ঐ এলাকার দিকে প্রবাহিত হতে থাকে, যার ফলে সৃষ্টি হয় ঝড়ো বাতাস। এই ঝড়ো বাতাসের ফলে আগুন আরও দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দাহ্য বস্তু পুড়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দাবানল চলতে থাকে। যেহেতু অনেক বড় অঞ্চল জুড়ে দাবানল চলতে থাকে তাই এটি নিয়ন্ত্রনে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
দাবানল মোকাবেলায় কার্যকর কোন পদ্ধতি না থাকলেও হেলিকপ্টার ও বিমান ব্যবহার করে নদী কিংবা সমুদ্র থেকে পানি অথবা রাসায়নিক দ্রব্য এনে ঐ অঞ্চলে ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া আগুনের অগ্রভাগে নতুন করে অগ্নি সংযোগ করেও আগুন নেভানোর পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।
