পেস্ট্রি যুদ্ধের পটভূমি:
পেস্ট্রি যুদ্ধ হলো মেক্সিকো ও ফ্রান্সের মধ্যে ১৮২৮–১৮২৯ সালের সামরিক সংঘর্ষ। এই যুদ্ধের নাম এসেছে একটি অদ্ভুত ঘটনার কারণে, যা মূলত অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রধান কারণসমূহ:
১. ফরাসি নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দাবি:
মেক্সিকো স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ছিল। তখন দেশটিতে অনেক বিদেশি ব্যবসায়ী ও নাগরিক বসবাস করছিল। তাদের অভিযোগ ছিল যে, মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে তাদের ব্যবসা ও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু মেক্সিকো সরকার ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
২. বেকারের ক্ষতির ঘটনা:
একটি ফরাসি বেকারের (পেস্ট্রি ব্যবসায়ী) দোকান ভাঙচুর এবং লুটপাটের শিকার হয়। বেকার তার ক্ষতির জন্য ফরাসি সরকারকে অভিযোগ জানায়। ফরাসি সরকার তখন মেক্সিকোর কাছে অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে। এই ছোটখাটো ঘটনার কারণে যুদ্ধের নাম “পেস্ট্রি যুদ্ধ” রাখা হয়।
যুদ্ধের প্রধান ঘটনা:
-
ফরাসি নৌবাহিনী আক্রমণ:
ফরাসি সরকার ১৮২৮ সালে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নৌবাহিনী পাঠায়। তারা ভেরাক্রুজ (Veracruz) বন্দরে অবতরণ করে এবং শহরটি বোমাবর্ষণ করে। -
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা:
মেক্সিকো তখন রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ছিল। কিন্তু তারা কিছু প্রতিরক্ষা প্রচেষ্টা চালায়। -
সামরিক ফলাফল:
ফরাসিরা দ্রুত বিজয়ী হয় এবং মেক্সিকোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। অবশেষে ১৮২৯ সালের মার্চে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। মেক্সিকো ফ্রান্সকে প্রায় ৬০০,০০০ পেসো ক্ষতিপূরণ দেয়।
যুদ্ধের গুরুত্ব:
১. মেক্সিকোর রাজনৈতিক দুর্বলতা প্রমাণিত:
এই যুদ্ধ দেখিয়েছে যে স্বাধীন হওয়া সত্ত্বেও মেক্সিকো আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দুর্বল।
২. ফ্রান্সের প্রভাব বৃদ্ধি:
ফ্রান্স এই যুদ্ধের মাধ্যমে মেক্সিকোর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।
৩. অদ্ভুত নামকরণের ইতিহাস:
সাধারণত যুদ্ধগুলো বড় রাজনৈতিক বা সামরিক কারণে ঘটে, কিন্তু পেস্ট্রি যুদ্ধের নাম এসেছে একটি বেকারের ক্ষতির ঘটনা থেকে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে অদ্ভুত নামকরণের একটি উদাহরণ।
