Latest

সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

ডগ ফাইট - বিমান যুদ্ধ

 *** ভিডিওটি ইউটিউবে দেখতে এই পোষ্টের নিচে যান ***

‘ডগ ফাইট’ – আকাশযুদ্ধের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়

‘ডগ ফাইট’ শব্দটি মূলত যুদ্ধবিমানের মধ্যে সংঘটিত সরাসরি ও স্বল্প দূরত্বের আকাশযুদ্ধ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সহজভাবে বললে, এটি এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে অন্তত দুটি অথবা তার বেশি যুদ্ধবিমান একে অপরকে ভূপাতিত করার উদ্দেশ্যে ঘনিষ্ঠ দূরত্বে ম্যানুভার করে একে অপরের পেছনে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এই ধরনের যুদ্ধে প্রযুক্তি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পাইলটের দক্ষতা ও প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায়, আধুনিক অস্ত্র বা এভিওনিক্স না থাকলেও একজন দক্ষ পাইলট তার প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়।

ডগ ফাইট – শব্দটির উৎস কোথা থেকে?

এই শব্দটির উৎস নিয়ে দুটি প্রধান তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে:

🔸 মত ১: কুকুরের লড়াই থেকে অনুপ্রাণিত

এই ব্যাখ্যাটি বলছে, ‘ডগ ফাইট’ শব্দটি এসেছে কুকুরের মারামারির ধরন থেকে। যখন দুটি কুকুর লড়াই করে, তখন তারা একে অপরের সামনের অংশ এড়িয়ে পেছনে ঘুরে যাওয়ার চেষ্টা করে। কারণ, কুকুরের পেছনের অংশে থাকা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এবং আক্রমণের জন্য সুবিধাজনক।

একইভাবে, যুদ্ধবিমানের লড়াইতেও দেখা যায়, পাইলটরা প্রতিপক্ষ বিমানের ‘টেইল’ বা পিছনের অংশে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে, যাকে ‘six o’clock position’ বলা হয়। এই অবস্থান থেকে গুলি বা মিসাইল ছোঁড়া সহজ হয় এবং প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণের সম্ভাবনাও কম থাকে। অধিকাংশ সফল ডগ ফাইটেই দেখা যায়, যে পাইলট আগে টেইলে অবস্থান নিতে পারে, সেই সাধারণত বিজয়ী হয়।

🔸 মত ২: বিশৃঙ্খল আক্রমণ থেকে অনুপ্রাণিত

এই মত অনুযায়ী, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন একাধিক বাইপ্লেন একসাথে আকাশে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়তো, তখন পুরো পরিস্থিতি হতো একেবারে এলোমেলো ও বিশৃঙ্খল। ঠিক যেন একদল বুনো কুকুর একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে—নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে। এই ধরণের হট্টগোলপূর্ণ আক্রমণই ‘ডগ ফাইট’ শব্দটির জন্ম দিয়েছে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।
ইতিহাসের দিকে এক ঝলক

‘ডগ ফাইট’ শব্দটির প্রথম লিখিত রেফারেন্স পাওয়া যায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। ১৯১৮ সালে জার্মানির বিখ্যাত এইস পাইলট ম্যানফ্রেড ভন রিখহতোফেন (যিনি ‘রেড ব্যারন’ নামে পরিচিত), তিনি যখন ব্রিটিশ ফায়ার থেকে নিহত হন, তখন একটি ব্রিটিশ সংবাদপত্রে এই লড়াইকে ‘dogfight’ বলে উল্লেখ করা হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরবর্তী সব আকাশযুদ্ধের ঘনিষ্ঠ সংঘর্ষের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ হতে থাকে।
প্রযুক্তির অগ্রগতি ও ডগ ফাইটের প্রাসঙ্গিকতা

বর্তমানে যুদ্ধবিমানে BVR (Beyond Visual Range) মিসাইল সিস্টেমের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এখন প্রতিপক্ষকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেই শনাক্ত করে ধ্বংস করা যায়। এই প্রযুক্তির ফলে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ডগ ফাইটের প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

তবুও, প্রতিটি আধুনিক যুদ্ধবিমানে এখনো ক্লোজ রেঞ্জে লড়াই করার সক্ষমতা রাখা হয়, কারণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কখনো কখনো BVR যুদ্ধ অকার্যকর হতে পারে। তখনই আবার ক্লাসিক ডগ ফাইটের প্রয়োজন পড়ে।

বিশেষ করে যুদ্ধের সময় যদি রাডার বা জ্যামিং সিস্টেম ব্যর্থ হয়, অথবা কোনোভাবে বিমানগুলো ঘনিষ্ঠ দূরত্বে চলে আসে, তখন ডগ ফাইটের দক্ষতা একজন পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
আধুনিক যুদ্ধ প্রশিক্ষণে ডগ ফাইট

আজও বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীতে পাইলটদের Visual Range Combat বা ডগ ফাইট ট্রেনিং দেওয়া হয়, কারণ যুদ্ধ সবসময় পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। যুক্তরাষ্ট্রের ‘TOPGUN’ স্কুল তাদের মধ্যে অন্নতম।

ডগ ফাইট শব্দটি শুধুই একটি টার্ম নয়, এটি এক ধরনের ইতিহাস, কৌশল এবং সাহসিকতার পরিচয়। আধুনিক প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক না কেন, একজন পাইলটের অভিজ্ঞতা ও ম্যানুভারিং দক্ষতা কখনোই মূল্যহীন হয়ে যাবে না।

আর ‘ডগ ফাইট’ শব্দটির পেছনের মজার ব্যাখ্যাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যুদ্ধ শুধু প্রযুক্তির খেলা নয়, এটি বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা আর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মঞ্চ।

আপনি কি জানতেন?
– বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ডগ ফাইট জিতে নেওয়া পাইলট ছিলেন এরিখ হার্টম্যান (Erich Hartmann), যিনি জার্মানির লুফটওয়াফের হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৩৫২টি শত্রু বিমান ভূপাতিত করেছিলেন।

ইউটিউবে দেখুনঃ

ক্যাটাগরিঃ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.