Latest

সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

বাংলাদেশের বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাস

 *** ভিডিওটি ইউটিউবে দেখতে এই পোষ্টের নিচে যান ***

বাংলাদেশের আকাশে বিমান চলাচলের ইতিহাসে অনেক সাফল্যের পাশাপাশি রয়েছে কিছু মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আজ আমরা জানবো বাংলাদেশের বেসামরিক ও সামরিক বিমান দুর্ঘটনার গল্প, যা আমাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চলুন, শুরু করা যাক!

প্রথমে আসি বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার কথায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবে কিছু ঘটনা আমাদের মনে গভীর দাগ কেটেছে।

১৯৭০, তেজগাঁও দুর্ঘটনা

১৯৭০ সালের ২ ডিসেম্বর, একটি ত্রাণবাহী কার্গো বিমান তেজগাঁও বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হয়। এই বিমান সুইস রেড ক্রসের ২৭.৫ টন শিশু খাদ্য বহন করছিল। খারাপ আবহাওয়া ও পাইলটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

১৯৮৪, ফকার এফ২৭ দুর্ঘটনা

১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফকার এফ২৭-৬০০ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে জলাভূমিতে বিধ্বস্ত হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের মাটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় ৪৯ জন প্রাণ হারান। বিমানটির পাইলট ছিলেন কানিজ ফাতেমা রোকসানা, বাংলাদেশের প্রথম মহিলা বাণিজ্যিক পাইলট।

১৯৯৭, ফ্লাইট বিজি ৬০৯

১৯৯৭ সালে, ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে ফ্লাইট বিজি ৬০৯, ঘন কুয়াশার কারণে ধানখেতে বিধ্বস্ত হয়। এবং এটি ছিল একটি ফকার এফ২৮ বিমান। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি হয়নি, তবে ১৭ জন আহত হন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসও উল্লেখযোগ্য। ১৯৯১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৩২টি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। আসুন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার দিকে নজর দিই।

১৯৯১, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি

১৯৯১ সালের বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে বিমান বাহিনীর প্রায় ৮০টি বিমান এবং পাঁচটি মিল এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়। এটি ছিল বিমান বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্ষতি।

২০১৮, এফ-৭ বিজি দুর্ঘটনা

২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর, টাঙ্গাইলে রকেট ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি এফ-৭ বিজি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। পাইলট প্রাণ হারান।

২০২৪, ইয়াক-১৩০ দুর্ঘটনা

২০২৪ সালের ৯ মে, একটি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ নিহত হন।


২১ জুলাই ২০২৫, ঘড়ির কাটায় তখন দুপুর ১ টা বেজে ১২ মিনিট। উত্তরা দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুলের নীল আকাশ হঠাৎই কাঁপিয়ে নামল মৃত্যুর বার্তা। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি FT-7BGI অনুশীলন বিমান স্কুলের উপর আছড়ে পড়ল। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেলো ছোট ছোট স্বপ্নগুলো—নিভে গেল অগনিত কমলমতি শিশু, শিক্ষক, অভিভাবক সহ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের প্রাণ।

চারপাশে শুধু কান্না আর আর্তনাদ। মুহূর্তেই পাল্টে গেল সবকিছু। এই ক্ষত হয়তো কোনো দিনই শুকাবে না। আকাশের তারা হয়ে যারা হারিয়ে গেল, তারা আমাদের হৃদয়ে অমর থাকবে চিরকাল।

বাংলাদেশের বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাস আমাদের শেখায় নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব। প্রতিটি দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার আহ্বান জানায়।

ইউটিউবে দেখুনঃ

ক্যাটাগরিঃ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.