Latest

সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

কী ঘটবে যদি পৃথিবী থেকে হঠাৎ সব মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়?

 *** ভিডিওটি ইউটিউবে দেখতে এই পোষ্টের নিচে যান ***


চারিদিকে কেবলই নিস্তব্ধতা। জনশূন্য শহরগুলোতে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আর পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের ব্যাগগুলোর খসখসে আওয়াজ ছাড়া আর কোনো প্রাণের অস্তিত্ব নেই। যেন এক ভুতুড়ে নগরী, যেখানে বহুতল ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে কঙ্কালের মতো। গলি-ঘুপচিতে ছুটে বেড়াচ্ছে বিশালাকার ইঁদুর কিংবা অচেনা কোনো প্রাণী। এই দৃশ্যকল্প আমাদের পরিচিত, বহু সিনেমায় আমরা এমন মানব-পরবর্তী পৃথিবীর ছবি দেখেছি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা কী বলেন? যদি সত্যিই একদিন হঠাৎ করে পৃথিবীর বুক থেকে সমস্ত মানুষ উধাও হয়ে যায়, তাহলে কী ঘটবে? আমাদের গড়া সভ্যতা প্রকৃতির বুকে বিলীন হতে কত সময় নেবে? আসুন, বিজ্ঞানীদের বস্তুনিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সেই রোমাঞ্চকর কল্পনার জগতে প্রবেশ করি।

প্রথম কয়েক ঘণ্টা: অন্ধকারের সূচনা

মানবশূন্য পৃথিবীর প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নেমে আসবে রাজ্যের অন্ধকার। বিশ্বের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রই জীবাশ্ম জ্বালানিতে চলে। চালকবিহীন সেই কেন্দ্রগুলো একে একে বিকল হতে শুরু করবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাতের পৃথিবী নিমজ্জিত হবে নিকষ কালো অন্ধকারে। কেবল বায়ুকল, সৌর প্যানেল এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু থাকবে। রাতের আকাশে ফুটে উঠবে লক্ষ কোটি তারার মেলা, যা দূষণের কারণে শহুরে মানুষ কখনো দেখতে পায় না।

প্রথম কয়েক দিন: বিশৃঙ্খলা ও মুক্তি

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ অবস্থায় (safe mode) চলে যাবে, কারণ সেগুলোকে সচল রাখার জন্য মানুষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে, তেল এবং গ্যাস শোধনাগারগুলোতে ঘটবে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড। নিয়ন্ত্রণের অভাবে এই আগুন মাসের পর মাস ধরে জ্বলতে থাকবে, বাতাসে ছড়িয়ে দেবে বিষাক্ত ধোঁয়া।

এদিকে, পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ রেললাইন ও টানেলগুলো পানিতে ডুবতে শুরু করবে। নিয়মিত পানি নিষ্কাশনের জন্য যে পাম্পগুলো ব্যবহৃত হতো, বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো অকেজো হয়ে পড়বে। কয়েক দিনের মধ্যেই নিউ ইয়র্ক, লন্ডন বা টোকিওর সুবিশাল পাতাল রেল ব্যবস্থা পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে যাবে।

প্রথম সপ্তাহ: পোষা প্রাণীদের নিয়তি

১০ দিনের মাথায় পৃথিবীর কোটি কোটি পোষা প্রাণী ও খামারের পশুরা এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে। খামারের দরজাগুলো বন্ধ থাকায় বহু গরু, ছাগল, মুরগি, বিড়াল ইত্যাদি খাবারের অভাবে মারা যাবে। যারা কোনোভাবে বেরিয়ে আসতে পারবে, তারাও বন্য পরিবেশে টিকে থাকার সংগ্রামে হিমশিম খাবে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের উপর নির্ভরশীল প্রাণীরা শিকার করতে বা নিজেকে রক্ষা করতে ভুলে যাওয়ায় তারা ধুঁকে ধুঁকে মারা পড়বে। অন্যদিকে, ইঁদুর বা তেলাপোকার মতো প্রাণীরা, যারা মানুষের উচ্ছিষ্টে বেঁচে থাকত, তারাও খাদ্য সংকটে পড়বে। কেবল টিকে থাকবে প্রকৃতির হিংস্র ও স্বাধীন সন্তানেরা।

প্রথম মাস: পারমাণবিক বিপর্যয়

এক মাসের মধ্যে ঘটবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয়ের চেয়েও বড় দুর্ঘটনা। পারমাণবিক চুল্লিগুলোকে ঠান্ডা রাখার জন্য যে পানি ব্যবহৃত হতো, তা বাষ্পীভূত হয়ে যাবে। এর ফলে চেরনোবিল বা ফুকুশিমার চেয়েও ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠবে একাধিক পারমাণবিক কেন্দ্র। বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে তেজস্ক্রিয়তা। বহু প্রাণী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে। এই তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব থাকবে হাজার হাজার বছর ধরে।

প্রথম বছর: প্রকৃতির প্রত্যাবর্তন

এক বছরের মধ্যে প্রকৃতির আগ্রাসন স্পষ্ট হয়ে উঠবে। রাস্তাঘাট, ফুটপাত ফেটে গজিয়ে উঠবে ঘাস আর আগাছা। শহরগুলোর কংক্রিটের বুক চিরে মাথা তুলবে ছোট ছোট গাছ। মানুষের অনুপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমতে শুরু করবে, বায়ুমণ্ডল ধীরে ধীরে নির্মল হতে থাকবে।

২৫ বছর পর: সবুজের সমারোহ

২৫ বছর পর শহরগুলোর চেহারা আমূল বদলে যাবে। রাস্তাঘাট পরিণত হবে সবুজ গালিচায়। বাড়ির ছাদ, দেয়াল ঢেকে যাবে লতাপাতায়। দুবাই বা লাস ভেগাসের মতো মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা শহরগুলো আবার বালির তলায় চাপা পড়তে শুরু করবে। চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া বা মুক্ত হয়ে যাওয়া প্রাণীরা নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেবে এবং বংশবৃদ্ধি করবে।

৭৫ থেকে ১০০ বছর: কাঠের কাঠামোর পতন

মানুষের তৈরি কাঠের বাড়িঘরগুলো ঘুণপোকা ও উইপোকার আক্রমণে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে শুরু করবে। ৭৫ বছরের মধ্যে কাঠের কাঠামো দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়বে এবং ১০০ বছরের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ কাঠের স্থাপনার কোনো চিহ্নই থাকবে না।

৩০০ বছর পর: ইস্পাতের সমাপ্তি

বৃষ্টির পানি আর বাতাসের অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় মরিচা ধরে ক্ষয় হতে শুরু করবে আইফেল টাওয়ার, গোল্ডেন গেট ব্রিজের মতো ইস্পাতের তৈরি বিশাল স্থাপনাগুলো। প্রায় ৩০০ বছরের মধ্যে এগুলো ভেঙে পড়বে। অন্যদিকে, বাঁধগুলো ভেঙে যাওয়ায় সৃষ্টি হবে নতুন নতুন নদী ও হ্রদ, যা বহু এলাকাকে প্লাবিত করবে।

১,০০০ বছর পর: সভ্যতার ক্ষীণ স্মৃতি

এক হাজার বছর পর মানব সভ্যতার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। শহরগুলো পরিণত হবে গভীর জঙ্গলে। কংক্রিটের ভবনগুলো ভেঙেচুরে মাটির সাথে মিশে যাবে। টিকে থাকবে শুধু বিশাল পাথরের তৈরি কিছু স্থাপনা।

১০,০০০ বছর পর: টিকে থাকবে কেবল পাথর

দশ হাজার বছর পরেও পৃথিবীর বুকে মানুষের অস্তিত্বের কিছু প্রমাণ রয়ে যাবে। মিশরের পিরামিড, চীনের মহাপ্রাচীর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট রাশমোরের পাথরের মূর্তিগুলো তখনও দাঁড়িয়ে থাকবে। প্রকৃতির হাজারো ঝড়-ঝাপ্টা সহ্য করে এগুলোই হবে মানব সভ্যতার শেষ স্মৃতিচিহ্ন।

কয়েক মিলিয়ন বছর পর: চূড়ান্ত বিলুপ্তি

ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক ক্ষয় না হলে মাউন্ট রাশমোরের মুখগুলো প্রায় ৭.২ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। কিন্তু প্রায় ১০ থেকে ৫০ মিলিয়ন বছর পর, যদি কোনো বুদ্ধিমান ভিনগ্রহের প্রাণী পৃথিবীতে আসে, তারা মানুষের তৈরি কোনো কিছুই খুঁজে পাবে না। হয়তো মাটির নিচে চাপা পড়া কিছু প্লাস্টিকের বোতল বা কাঁচের টুকরো ছাড়া আমাদের গর্বের সভ্যতার আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। পৃথিবী তার সমস্ত ক্ষত সারিয়ে ফিরে যাবে তার আদিম, অকৃত্রিম রূপে। মানবজাতি পরিণত হবে মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক ক্ষণিকের অধ্যায়ে।

ইউটিউবে দেখুনঃ

 
ক্যাটাগরিঃ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.